গণতন্ত্রের সংজ্ঞা
গণতন্ত্রের কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা নেই। কেননা, কাল ও স্থানভেদে গণতন্ত্রের পার্থক্য ঘটে। সহজ ভাষায়, যেকোনো দুটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে ফারাক লক্ষ করা যায়। গণতন্ত্রের সংজ্ঞার প্রশ্নটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ও বিতর্কিত। কয়েক দশক ধরে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়ণ-বিষয়ক গবেষণা, আলোচনা ও পর্যবেক্ষণে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও গণতন্ত্রের প্রকৃতি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানে, বিশেষত রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, গণতন্ত্রের অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনার মধ্যে দুটি প্রধান ধারা রয়েছে। এর একটি ধারায় গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয় একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে, যা নির্দিষ্ট ‘নির্বাচনী’ ও ‘পদ্ধতিগত’ মানদণ্ড (বা নির্ণায়ক) অর্জনে সক্ষম হয়েছে। অন্য ধারাটিতে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়ণকে সমাজে কতগুলো সঠিক গণতান্ত্রিক ‘সাংস্কৃতিক’ উপাদান অর্জিত হওয়ার নিরিখে বিবেচনা করা হয়। পদ্ধতিগত গণতন্ত্রের ধারণার জনক জোসেফ সুম্পিটারকে বলা যেতে পারে। সুম্পিটারের ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ ক্যাপিটালিজম, সোশ্যালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি-এর (সুম্পিটার, ১৯৪৬/১৯৫০) লক্ষ্য হচ্ছে, গণতন্ত্র-সম্পর্কিত ‘অস্পষ্ট ধারণা’ থেকে সরে এসে গণতান্ত্র...